মো. সাইফুর রহমান চৌধুরী টিপু
ডিরেক্ট সেলিং কী
ডিরেক্ট সেলিং একটি পদ্ধতির নাম। যে পদ্ধতিতে ক্রেতার সিদ্ধান্তের সপক্ষে কাঙ্ক্ষিত পণ্যসামগ্রী বা সেবা নির্দিষ্ট মূল্যে কিছু ব্যক্তি (একটি ডিরেক্ট সেলিং কোম্পানিতে নিবন্ধিত) স্বাধীন ক্রেতা পরিবেশক হিসেবে ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে সরাসরি বিপণন করে থাকেন। অর্থাৎ ক্রেতা ভোক্তা ও ডিরেক্ট সেলারের পারস্পরিক সম্পর্ক ও চাহিদাই পণ্যকে সরাসরি ক্রেতা ভোক্তার কাছে পেঁৗছে দেয়। এক্ষেত্রে পণ্য ও গ্রাহক সেবার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতার সন্তুষ্টি অর্জনই ডিরেক্ট সেলিংয়ের মূল লক্ষ্য। গতানুগতিকভাবে একজন ক্রেতা পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিপরীতে একজন ডিরেক্ট সেলারের কাছ থেকে পণ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হতে কাঙ্ক্ষিত সময় পেয়ে থাকেন। প্রচলিত বাজার ব্যবস্থার পাশাপাশি পণ্যের উৎপাদনকারী বা যৌথ উৎপাদক বা আমদানিকারক বা বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি একজন ডিরেক্ট সেলার কোনো প্রকার মাধ্যম ছাড়া শুধুমাত্র নিজস্ব মাধ্যমে পণ্যকে ক্রেতার নিকট একক ও নিশ্চিত আয়।
মূলত ক্রেতা ভোক্তার সম্পর্ক সুব্যবস্থাপনা, গ্রাহকের আস্থা অর্জন, বিপণন পদ্ধতি ডিরেক্ট সেলিং পদ্ধতির মাধ্যমে একজন সাধারণ ক্রেতা ভোক্তাকে খ-কালীন বা পূর্ণকালীন ডিরেক্ট সেলার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার অনুপ্রেরণা জোগায়। ডিরেক্ট সেলিং পদ্ধতির মধ্যদিয়ে বিপণনে সম্পৃক্ত হলেই শুধু নয় নিজস্ব যোগ্যতায় ও মানসম্পন্ন পণ্য ও সেবা দিয়ে ক্রেতা তৈরি করলেই এখানে একজন বেকার বা বিভিন্ন পেশাজীবীর যে কেউ খ-কালীন কাজ করে কাজের বা বিক্রয়ের অনুপাতে উপার্জন করতে পারেন।
ডিরেক্ট সেলিং পদ্ধতির পাশাপাশি কিছু পদ্ধতিও আছে যেমন- নেটওয়ার্ক মার্কেটিং, মাল্টি লেভেল মার্কেটিং ডোর টু ডোর টু সেলিং, পিরামিড স্কিম, ই-কমার্স, টেলি-মার্কেটিং ইত্যাদি। এ পদ্ধতিগুলোর পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন মতামত থাকলেও বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য পরিচিত পদ্ধতিটির নাম হচ্ছে ডিরেক্ট সেলিং।
বিশ্বের প্রায় ১৩০টি দেশে ডিরেক্ট সেলিং প্রচলিত হলেও ৬০-৬৫টি দেশের ডিরেক্ট সেলিং পদ্ধতিতে ব্যবসার জন্য জাতীয়ভাবে আইন প্রণীত হয়েছে। বর্তমানে সমগ্র বিশ্বে প্রায় ১৩-১৫ হাজার ডিরেক্ট সেলিং কোম্পানি থাকলেও শুধুমাত্র প্রণীত নীতিমালা ও আইনের আওতায় প্রায় ৩০০০-এর অধিক কোম্পানির নিবন্ধন রয়েছে বিশ্বব্যাপী ডিরেক্ট সেলিং নিয়ন্ত্রণকারী সর্বোচ্চ সংস্থার অধীনে। যার নাম ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব ডিরেক্ট সেলিং (ডঋউঝঅ) একটি গ্রহণযোগ্য স্বীকৃত আন্তর্জাতিক নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক আইনের মধ্যদিয়ে এ পর্যন্ত পৃথিবীর যে সকল দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে নীতিমালা ও আইন প্রণীত হয়েছে এমন ৬৫টি দেশের প্রত্যেক অ্যাসোসিয়েশনগুলো (ডঋউঝঅ)-এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। বর্তমানে বিশ্বে ডিরেক্ট সেলিং অত্যন্ত জনপ্রিয় পদ্ধতি। বিশেষ করে জনসংখ্যাপ্রবণ ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত জনগণের অনেকেই ডিরেক্ট সেলিং পদ্ধতিকে তাদের পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছেন খ- বা পূর্ণকালীন কাজ হিসেবে। বর্তমানে বিশ্বে ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনীতি বা বিপর্যস্ত অর্থনীতির ছোবল থেকে খোদ ইউরোপের অনেক দেশেই বেকারত্বের হার বেড়েছে। চলমান জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও অধিক সচ্ছলতার জন্য ইউরোপ আমেরিকার ৪৩% ছাত্রছাত্রী ডিরেক্ট সেলিংকে স্বাগত জানিয়েছেন। ২০১০ সালের একটি পরিসংখ্যান (ডঋউঝঅ) থেকে পাওয়া গেছে যা হল ২০১০ সালে সমগ্র বিশ্বে শুধুমাত্র নিবন্ধিত ৬৫টি দেশের ৭ কোটি ৪০ লক্ষ ডিরেক্ট সেলার বিশ্বব্যাপী ১ লক্ষ ১৭ হাজার ৫৯৫ (১,১৭,৫৯৪) লক্ষ মিলিয়ন ইউএস ডলার। বর্তমান বছরে এই হিসাব আরো বেড়ে গেছে। এ তো গেল শুধুমাত্র রেজিস্টার্ড অ্যাসোসিয়েশন ও কোম্পানিগুলোর কথা। এর বাইরে বাকি যে কোম্পানিগুলো আছে তাদের ডিরেক্ট সেলার ও বিক্রীত পণ্যের অর্থ হবে উক্ত পরিসংখ্যানের দ্বিগুণ।
ক্রেতা ভোক্তা হিসেবে মানুষ তার অধিকার চায়। মানুষ চায় নির্ভরতা, বিশ্বস্ততা, সততা, পণ্যের গ্যারান্টি, পণ্য সেবা, নির্ধারিত সাশ্রয়ী সঠিক মূল্য, সামর্থ্যের মূল্যায়নসহ ক্রেতার প্রতি বিক্রেতার ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, মানবিক মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠা। উলি্লখিত বিষয়ে প্রচলিত বিপণন ব্যবস্থার পাশাপাশি ডিরেক্ট সেলিং পদ্ধতি ও ডিরেক্ট সেলারও এ বিষয়গুলো সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে তাদের ক্যারিয়ারের একমাত্র পূর্বশর্ত হিসেবে মনে করেন। তাই আজ বর্তমান বিশ্বে ডিরেক্ট সেলিং একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি, যে সততা ও স্বচ্ছতার কোনো বিকল্প নেই।
বিশ্বব্যাপী ডিরেক্ট সেলিংয়ের সূচনা ও প্রেক্ষাপট
বর্তমানে বিশ্বে ডিরেক্ট সেলিং পদ্ধতিকে ২১ শতকের সেলস মেথড বলা হচ্ছে। যেখানে সামাজিকতার সম্পর্কে অর্থনৈতিক স্বাধীনতার নিশ্চিত সুযোগ রয়েছে। পৃথিবীতে যখন মুদ্রা ও বাজার ব্যবস্থা ছিল না তখনো ডিরেক্ট সেলিং অঘোষিতভাবে পরোক্ষ কার্যকরী ছিল। যেখানে বাজার ব্যবস্থার প্রসার ছিল না, মুদ্রা ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর সেখানে ডিরেক্ট সেলিং পরোক্ষভাবে কার্যকরী ছিল। আধুনিক ডিরেক্ট সেলিংয়ের সূচনা ১০০ বছরের পুরনো হলেও মূলত আজ থেকে প্রায় ৭ দশক আগে অর্থাৎ ১৯৪০-৪১ সালে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের একজন ফুড কেমিস্ট ড. কার্ল রেইন বোর্গ একটি খাদ্য পরিপূরক প্রচলিত বিপণন পদ্ধতিতে বিপণন না করে উপরোক্ত ডিরেক্ট সেলিং বিপণন ব্যবস্থা ব্যবহার করেন এবং কোনো বেতনভোগী গতানুগতিক বিপণন কর্মচারী ব্যবহার না করে, বরং সাধারণ শ্রেণীর বেকার, অর্ধবেকার ও ভোক্তাশ্রেণীকে তার বিপণনকারী হিসেবে ব্যবহার করেন। এতে গতানুগতিক গুটি কতক সুবিধাভোগী মধ্যস্বত্বভোগীর স্থলে বহুস্তরীয় সাধারণ শ্রেণীর মধ্যস্বত্বভোগীর সৃষ্টি হয়। ফলে বিপণন লভ্যাংশ কেবল গতানুগতিক বিপণন ব্যবস্থার মাত্র গুটিকতক মধ্যস্বত্বভোগীর স্থলে (অর্থাৎ হাজারে ১ জনের স্থলে .... ) প্রায় কমবেশি ২০% থেকে ২৫% ভোক্তাশ্রেণীর মধ্যে বণ্টন হয়ে থাকে। বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান একটি নির্দিষ্ট সময়ান্তে (মাসে বা সপ্তাহে) মোট বিপণন লভ্যাংশের একটি অংশ (প্রায় কমবেশি ৪০% থেকে ৫০% গ্রস লভ্যাংশ) বিপণনকারী ভোক্তাদলের মাঝে একটি নির্দিষ্ট হারে অর্থাৎ ওই প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং প্ল্যান অনুযায়ী বহুস্তরে, ভোক্তাদের বিপণন ভলিউমের যোগ্যতা বিচারে প্রদান করে থাকে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত ডিরেক্ট সেলিং প্রবর্তিত ও প্রচলিত হয়ে আসছে।
ডড়ৎষফ ঋবফবৎধঃরড়হ ড়ভ উরৎবপঃ ঝবষষরহম অংংড়পরধঃরড়হ (ডঋউঝঅ)
১৯৭৮ সালে বিশ্বব্যাপী ডিরেক্ট সেলিং কোম্পানি ও অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে তাদের নিজস্ব দেশের নীতিমালা ও আইনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বাগত জানায় ডড়ৎষফ ঋবফবৎধঃরড়হ ড়ভ উরৎবপঃ ঝবষষরহম অংংড়পরধঃরড়হ (ডঋউঝঅ) অবশ্য এর অনেক আগেই ১৯৪৫-৫০ সাল থেকেই বিভিন্ন দেশের নিজস্ব ডিরেক্ট সেলিং অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হয়েছিল।
বর্তমানে আমেরিকান ডিরেক্ট সেলিং অ্যাসোসিয়েশন ওয়াশিংটন ডিসি এবং প্রধান সদর দফতরে ডঋউঝঅ হেড কোয়ার্টার অবস্থিত।
বিশ্বব্যাপী এই প্রতিষ্ঠানের অ্যাসোসিয়েশন সদস্য সংখ্যা শতাধিক এবং কোম্পানি নিবন্ধিত আছে প্রায় ৩০০০-এর অধিক। ধারণা করা হচ্ছে আগামী ১০ বছরে ডঋউঝঅ বিশ্বের অন্য ফেডারেশনগুলোর মধ্যে একটি শক্তিশালী ফেডারেশন বলে পরিগণিত হতে যাচ্ছে। যার অন্তর্ভুক্ত সদস্য সংখ্যা হতে পারে ৫০ কোটির অধিক। এ ফেডারেশনকে শক্তিশালী করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে আফ্রিকা, আমেরিকা ও ইউরোপিয়ান ডিরেক্ট সেলিং অ্যাসোসিয়েশনগুলো। এশিয়াতেও এর কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য।
বিশ্ব অর্থনীতিতে ডিরেক্ট সেলিং
বিশ্ব অর্থনীতিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ডিরেক্ট সেলিং। একটি উদাহরণ দিলেই এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাবেন পাঠক। ১৯৭০ সালে তুরস্কে ডিরেক্ট সেলিং অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হয়। বর্তমানে তুরস্কে ৭ লক্ষাধিক ডিরেক্ট সেলার বিভিন্ন ডিরেক্ট সেলিং কোম্পানিতে কাজ করছে। যারা তুরস্কের জাতীয় অর্থনীতিতে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিজনেস টার্ন ওভার সংযোগ করেছেন।
শুধু তাই নয়, বিশ্ব অর্থনীতিতে ১০০ শত বিলিয়ন ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে ডিরেক্ট সেলিং। এর সঙ্গে সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করছে মানুষের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে ব্যক্তির অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করছে। আগামী দাশকে সমগ্র বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১২ ভাগের ১ ভাগ মানুষ সম্পৃক্ত থাকবে ডিরেক্ট সেলিংয়ের সঙ্গে। শুধু তাই নয়, উৎপাদনমুখী শিল্পায়ন প্রতিষ্ঠায় এবং ডিরেক্ট সেলিং সম্পর্কিত বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর শিল্পায়ন প্রতিষ্ঠানসমূহ এখন বিশ্বব্যাপী। শুধু তাই নয়, বিশ্বব্যাপী সামাজিক দায়বদ্ধতায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে ডিরেক্ট সেলিং পদ্ধতি।
ডিরেক্ট সেলিং পদ্ধতির ঝুঁকি
ডিরেক্ট সেলিং পদ্ধতির মধ্য দিয়ে সমাজে বেকার, অর্ধবেকার, স্বল্প আয়ের চাকরিজীবীদের একটি বিকল্প আয় ও বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এ ধরনের বিপণন ব্যবস্থায় কোনো উচ্চশিক্ষা বা পূর্বঅভিজ্ঞতার প্রয়োজন না হওয়ায় এবং তাৎক্ষণিক একটি কমিশন অর্জনের ব্যবস্থা থাকায় সাধারণ জনগণ অতি দ্রুত ও অতি সহজেই ঝুঁকে পড়ে। তাই অতি সহজে ও কৌশলে অসৎ প্রকৃতির ব্যবসায়ীদের দ্বারা সৃষ্ট পিরামিড স্কিমের অবৈধ ব্যবসা এই ডিরেক্ট সেলিং ব্যবসা পদ্ধতির সঙ্গে মিশে গিয়ে সাধারণ মানুষ জনকে অতিরিক্ত লাভের লোভ দেখিয়ে প্রতারণা করার সুযোগ থাকে। কখনো কখনো অবৈধ কোনো পণ্য ও খারাপ ও অতি নিম্নমানের কোনো পণ্য দিয়ে এ বিপণন ব্যবস্থা চালু করে। যে কোনো সময়, যে কোনো অসাধু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দ্বারা সাধারণ শ্রেণীর ভোক্তাগণকে প্রতারণা করার সম্ভাবনাও এ পদ্ধতিতে থাকে। পৃথিবীর প্রায় অনেক দেশেই এ বিপণন ব্যবস্থার ওপরে একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা বা আইন তৈরি করা আছে। তাই সঠিক ডিরেক্ট সেলিং পদ্ধতিতে ব্যবসা করা ও সাধারণ জনগণকে সম্ভাব্য প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করার নিমিত্তে পৃথিবীর যেসব দেশে এ ধরনের বিপণন ব্যবস্থা চালু আছে, তাদের আদলে বা অনুকরণে বাংলাদেশেও একটি ডিরেক্ট সেলিং আইন বা অ্যাক্ট বা একটি নির্দিষ্ট বিপণন নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।
ডিরেক্ট সেলিং পদ্ধতির সুবিধাসমূহ
গবেষণায় দেখা গেছে নিম্নলিখিত কারণে মানুষ ডিরেক্ট সেলিং মার্কেটিং পদ্ধতিতে সম্পৃক্ত হয়।
ডিরেক্ট সেলিং পদ্ধতি একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগের একটি উত্তম পন্থা এবং মানুষকে সামাজিক করে তোলে।
ডিরেক্ট সেলিং পদ্ধতিতে মানুষ ইচ্ছামতো সুবিধাজনক সময়ে কাজ করতে পারে।
ডিরেক্ট সেলিং পদ্ধতি বাড়তি আয়ের একটি সুবর্ণ সুযোগ।
ডিরেক্ট সেলিং পদ্ধতি স্বল্প পুঁজিতে নিজস্ব ব্যবসা পরিচালনার একটি বিশেষ সুযোগ।
ডিরেক্ট সেলিং পদ্ধতি কাজ ও সাধ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে আয়ের সুযোগ তৈরি করে।
আপনিও ইচ্ছা করলেই ডিরেক্ট সেলিং পদ্ধতিতে সম্পৃক্ত হতে পারেন। এর জন্য কোনো রকম শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলে ভালো, অভিজ্ঞতা, শারীরিক সক্ষমতা বা মূলধনের প্রয়োজন হয় না। এ সমাজের যে কোনো বয়সের লোক যে কোনো পরিস্থিতিতে ডিরেক্ট সেলিং ব্যবসায় সফল হতে পারে।
একজন ডিরেক্ট সেলার সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে এবং নিজেই নিজের নিয়ন্ত্রণ কর্তা যার মানে হল-
পূর্ণকালীন অথবা খ-কালীন আপনি আপনার কাজের সময় ঠিক করুন।
নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং কীভাবে লক্ষ্য অর্জন করবেন তা স্থির করুন।
নিজের চেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আয় করুন। আপনার অক্লান্ত পরিশ্রম আর চেষ্টাই আপনার সফলতার সোপান নির্ধারণ করবে।
ডিরেক্ট সেলিং পদ্ধতিতে বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠত কয়েকটি কোম্পানি
এমওয়ে : রিচ ডিভস এবং জ্যয় ভেন এন্ডল ১৯৫৯ সালে আমেরিকার মিসিগানে এ কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত করেন। বর্তমানে বিশ্বের ৮০টি দেশে ১৪ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী, ৩০ লক্ষ ডিরেক্ট সেলার এ কোম্পানিতে কাজ করছেন। যারা বিশ্বব্যাপী ৯.২ বিলিয়ন ডলারের রেভিনিউ ব্যবস্থাপনা করছেন এবং বিশ্বব্যাপী এ কোম্পানিটির ৯০০টি পেটেন্টস রয়েছে। এছাড়া তারা সামাজিক দায়বদ্ধতায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে আসছে। এ কোম্পানিটির পণ্য তালিকায় ৬০০টি পণ্য রয়েছে; যার মধ্যে আর্টিস্টি স্কিন কেয়ার অ্যান্ড কসমেটিক্স প্রোডাক্টস, নিউট্রিওয়ে ফুড সাপ্লিমেন্ট, হোম টেকনোলজি, পার্সোনাল কেয়ার প্রোডাক্টস অন্যতম।
এভন : এ কোম্পানিটি শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য যেখানে এ কোম্পানিটিকে লিডিং গ্লোবাল বিউটি কোম্পানি বলা হয়। পৃথিবীর ১০০টি দেশে ৭০ লক্ষ স্বাধীন ক্রেতা পরিবেশক বা মহিলা ডিরেক্ট সেলাররা বার্ষিক ১০ বিলিয়ন ডলারের অধিক রেভিনিউতে সম্পৃক্ত আছেন। যাদের পণ্য তালিকায় শুধুমাত্র প্রসাধন সামগ্রী তথা ত্বক ও শরীর পরিচর্যা বিষয়ক পণ্য সামগ্রী বিপণন করেন। বিগত ১২৫ বছর ধরে এ কোম্পানিটি তাদের পণ্য সামগ্রী বিপণন করে আসছে। এর পাশাপাশি পৃথিবীতে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ ও প্রতিকারে এই কোম্পানিটি ১৯৯৬ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে আসছে। শুধুমাত্র তুরস্কেই তারা ১.৩ মিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহ করে তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন করছে।
হারবালাইফ : ১৯৮০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোনিয়াতে এই কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পৃথিবীর ৭৮টি দেশে ২.৩ মিলিয়ন ডিস্ট্রিবিউটর এই কোম্পানির মাধ্যমে ডিরেক্ট সেলিং সেক্টরকে ১১৮ বিলিয়ন ডলারের রেভিনিউ অর্জন করছে বিশ্বব্যাপী। ২০০৪ সাল থেকে এই কোম্পানিটি নিউইয়র্ক স্টক একচেঞ্জ এ এইচ এল এফ কোড নিয়ে অন্তর্ভুক্ত আছে এবং ২০১০ সালে এর ইনডোর্সমেন্ট ছিল ৪.৩ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত। স্বাস্থ্যকর খাদ্যপরিপূরক, ওয়েট ম্যানেজমেন্ট, মিল রিপ্লেসমেন্ট, ভিটামিন, পার্সোনাল কেয়ারবিষয়ক পণ্যসামগ্রী বিপণন করে আসছে গত ৩০ বছর ধরে। বিশ্বব্যাপী এই কোম্পানিটি সামাজিক দায়বদ্ধতায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে আসছে এবং খেলাধুলার উন্নয়নে বিশ্ব ফুটবলে গুরুত্বপূর্ণ রেখে আসছে। গত বছর যাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ছিলেন লিওনেল মেসি।
টাপারওয়্যার : ১৯৪৬ সালে এই কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে পৃথিবীর ১০৬টি দেশে এই কোম্পানির ডিরেক্ট সেলাররা কাজ করছেন এবং বিশ্বব্যাপী ডিরেক্ট সেলিং কোম্পানিসমূহের মধ্যে নিজস্ব পণ্য বিপণনের মাধ্যমে এটি ৫ম স্থানে অবস্থান করছে। যাদের বিপণন পদ্ধতির মূলমন্ত্র হিসেবে ১৯৫১ সাল থেকে হাউস পার্টি পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে আসছে। পৃথিবীতে গড়ে ২ সেকেন্ডে ১টি টাপারের পণ্য বিক্রয় হয় যা ১৪টি শিল্প কারখানায় উৎপাদিত হয়। এ কোম্পানিটির ২০০টি রেজিস্টার্ড পণ্যসামগ্রী রয়েছে। যার মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত প্লাস্টিক স্টোরেজ কন্টেইনার, কিচেন পণ্যসামগ্রী অন্যতম। পরিবেশবান্ধব ব্যবহৃত পণ্য সামগ্রী উৎপাদনে এই কোম্পানিটির পণ্যসামগ্রী 'প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার' এবং 'বেস্ট অব দ্য বেস্ট' খেতাবে ভূষিত হয়েছিল।
অরিফ্লেম : ১৯৬৭ সালে সুইডেনে একটি আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রসাধনী বিষয়ক কোম্পানি হিসেবে এই কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পৃথিবীর ৬০টি দেশে ৮ হাজার কর্মকর্তা কর্মচারী ও ৩.৮ মিলিয়ন ডিরেক্ট সেলাররা এ কোম্পানিতে কাজ করছে। এছাড়া এই কোম্পানিটির ১ হাজার উন্নতমানের প্রাকৃতিক উপকরণ বিপণনে একশ বিজ্ঞানী গবেষণা ও উন্নয়নে সফলভাবে কাজ করে আসছেন। বিশ্বব্যাপী এই কোম্পানিটি সামাজিক দায়বদ্ধতার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।
ন্যু স্কিন : এই কোম্পানিটি ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৯৬ সালে ৬৫ মিলিয়ন শেয়ার নিয়ে এটি পাবলিক কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এই কোম্পানিটি ৫২টি আন্তর্জাতিক মানের বিপণি কেন্দ্রে বিশ্বব্যাপী ২০০টি পণ্য বিপণন করে থাকে এবং প্রতি বছর গড়ে ১.৫৪ বিলিয়ন ডলার রেভিনিউ অপারেট করে থাকে। যার পণ্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে- এন্টি-এজিং, পার্সোনাল কেয়ার, নিউট্রিশনাল সাপ্লিমেন্টস ইত্যাদি। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই কোম্পানিটি ২০১০ সাল পর্যন্ত তার ডিরেক্ট সেলারদের ৭.৫ বিলিয়ন ডলার মোট কমিশন প্রদান করেছে।
এছাড়াও পৃথিবীতে উলি্লখিত সফল কোম্পানিগুলোর মতো আরো অনেক কোম্পানি রয়েছে যেমন- ডোরে, এল আর হেলথ অ্যান্ড বিউটি সিস্টেমস, নিক্কেনসহ নিবন্ধিত প্রায় ২০০০-এর অধিক সফল কোম্পানি রয়েছে। যাদের ঈর্ষণীয় সাফল্য বিশ্বকে করেছে বেকারমুক্ত, এনেছে মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি ও স্বাধীনতা।
বিশ্বব্যাপী যেসব দেশে ডিরেক্ট সেলিং স্বীকৃত এবং নীতিমালা ও আইনে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে
আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, ব্রাজিল, বুলগেরিয়া কানাডা, চিলি, চায়না, কলম্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া, চেক রিপাবলিক ডোমেনিকান রিপাবলিক, ডেনমার্ক, ইকুয়েডর, এস্টোনিয়া ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হংকং, হাঙ্গেরি, ইন্ডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, জাপান, কোরিয়া, লাটভিয়া, লুক্সেমবার্গ, মালয়েশিয়া, ম্যাক্সিকো, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, পানামা, পেরু, ফিলিফাইন, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, সস্নোভাকিয়া, সস্নোভেনিয়া, সাউথ আফ্রিকা, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, ইউক্রেন, ইউনাইটেড কিংডম, যুক্তরাষ্ট্র, উরুগুয়ে, ভেনিজুয়েলা।
প্রিয় পাঠক, উলি্লখিত দেশগুলো ছাড়াও যেসব দেশে এখনো ডিরেক্ট সেলিংয়ের আইন ও নীতিমালা প্রণীত হয়নি এমন আরো ৬০টির অধিক দেশ রয়েছে এবং ওইসব দেশে প্রায় ১২ হাজার কোম্পানি ডিরেক্ট সেলিং পদ্ধতিতে ব্যবসা করে আসছে, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। বাংলাদেশে আমার জানামতে ডিরেক্ট সেলিং পদ্ধতি ও এর সমসাময়িক মাল্টিলেভেল মার্কেটিং, নেটওয়ার্ক মার্কেটিং, টেলি-মার্কেটিং, ই-কমার্স মার্কেটিংসহ বিপজ্জনক পিরামিড স্কিম মার্কেটিংসহ শতাধিক কোম্পানি রয়েছে- যার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে এদেশের প্রায় এক কোটি ডিরেক্ট সেলার। বাংলাদেশকে এ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বাংলাদেশ ডিরেক্ট সেলিং পদ্ধতিতে বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের মতো এদেশের আগ্রহী জনগণ ও প্রতিষ্ঠানের জন্য আইন প্রণয়ন ও নীতিমালা কার্যকর করবে কি না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ
যে মুহূর্তে আমরা স্বাধীনতার ৪১ বছর অতিক্রম করছি ঠিক সে সময়ে গত মে মাসে সাউথ আফ্রিকাতে উদযাপিত হয়েছে 'আত্মকর্মসংস্থানে ডিরেক্ট সেলিংয়ের ৪০ বছর' শীর্ষক সম্মেলন। এদেশে জয়েন স্টক রেজিস্ট্রেশন কর্তৃক নিবন্ধিত হয়ে যে কোম্পানিগুলো বিভিন্ন নামে ব্যবসা করে আসছে তাদের পণ্যসামগ্রী, সেবা, ব্যবসার ধরন ইত্যাদি বিষয়গুলো যদি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বা জয়েন স্টক রেজিস্ট্রার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পত্রপত্রিকায় তালিকা প্রকাশ করা হতো তাহলে এদেশের মানুষ বিগত দিনে ডিরেক্ট সেলিংয়ের নামে প্রতারিত হতো না এবং দেশের অর্থনীতি আরো সমৃদ্ধ হতো। তদুপরি আপনার সরকারের সময়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং আপনার বিবেচনায় বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো আপনার সরকার ডিরেক্ট সেলিং আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যার কারণে বাংলাদেশের সকল ডিরেক্ট সেলিং কোম্পানি ও ডিরেক্ট সেলারদের পক্ষ থেকে আপনাকে জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা।
এই আইন ও নীতিমালা যত তাড়াতাড়ি কার্যকর হবে বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে বেকার ও বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের খ-কালীন ও পূর্ণকালীন কাজ ও পেশার স্বীকৃতি মিলবে এবং দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে ক্রেতার অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ডিরেক্ট সেলাররা যে পণ্য বিপণন করবে তার বিপরীতে রাষ্ট্র নিয়মিত ভ্যাট ও ট্যাক্স পাবে এই নিশ্চয়তা সবার পক্ষ থেকে আপনাকে দিতে চাই। আপনাকে আবারো ধন্যবাদ।
বাংলাদেশে ডিরেক্ট সেলিং পদ্ধতির সূচনার প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে মাল্টি লেভেল মার্কেটিং পদ্ধতি ও অন্যান্য পদ্ধতির আদলে ব্যবসার সূচনা হয় ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জিজিএন নামক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে, যার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন একজন শ্রীলঙ্কান কানাডিয়ান। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এদেশে পিরামিড স্কিমের মতো ব্যবসা প্রচলিত হয়। উক্ত পদ্ধতিতে অনেকেই ডিরেক্ট সেলিং বা মাল্টি লেভেল মার্কেটিংয়ের নাম ভাঙিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে জনগণের সঙ্গে প্রতারণায় লিপ্ত হয় এবং পরবর্তীতে আত্মগোপন করে। যাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গৃহীত হয়নি বিধায় বারবার তারা তাদের স্বরূপ বদল করেছে। যেসব কোম্পানি সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ডিরেক্ট সেলিং পদ্ধতির মাধ্যমে কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত করে ব্যবসা করে আসছে তাদের প্রতিও ওইসব কোম্পানির কারণে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়। পরবর্তীতে জিজিএন-এর ডিস্ট্রিবিউটররা বিষয়টি বুঝতে পেরে অনেকেই কোম্পানি ছেড়ে চলে যান এবং কোম্পানিটি জনগণের রোষানলে পড়ে বন্ধ হয়ে যায়। শুধুমাত্র ডিরেক্ট সেলিং আইনের অভাবে ও প্রয়োগের নীতিমালা কার্যকরী না হওয়ার কারণে বাংলাদেশে ডিরেক্ট সেলিং পদ্ধতির সূচনা ভিন্নভাবে হলেও বেশ কিছু কোম্পানি রয়েছে যাদের সততা ও প্রচেষ্টা রয়েছে বলে আমরা মনে করি। ২০০০ সাল থেকে যথাযথ নিবন্ধনপ্রাপ্ত হয়ে ও অনুমোদন গ্রহণ করে এদেশে ডিরেক্ট সেলিং পদ্ধতির মাধ্যমে প্রথম ব্যবসা আরম্ভ করে ডেসটিনি-২০০০ লিঃ। এর সঙ্গে সঙ্গে এমন অনেক কোম্পানি রয়েছে যাদের ব্যবসার সৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। কিন্তু নীতিমালার অভাবে ওই কোম্পানিগুলো ও তাদের ডিরেক্ট সেলাররা যথাযথভাবে পরিচালিত হতে পারেননি। তারপরও এদের মধ্যে অনেকেই রাষ্ট্রীয় কোষাগারে নিয়মিত ভ্যাট ট্যাক্স প্রদান করেছে এবং অনেকেই করেননি। কারণ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদফতর, পরিদফতর বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নীতিমালার অভাবে যথাযথভাবে ওই কোম্পানিগুলো মনিটরিং করতে পারেননি।
২০০০ সাল থেকে আজ অবধি দু-একটি কোম্পানি স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পূর্ণ পণ্যভিত্তিক সঠিক ডিরেক্ট সেলিং পদ্ধতিতে বিপণন করেও এক ধরনের হলুদ মিডিয়ার অপপ্রচারের রোষানলের শিকার হতে হচ্ছে। আর এর সঙ্গে প্রায় এক কোটি খেটে খাওয়া নিরীহ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন আজ বিপন্ন হতে চলেছে।
ডিরেক্ট সেলিং : প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ ও ডেসটিনি-২০০০ লিঃ
ডেসটিনি-২০০০ লিঃ ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে রেজিস্টার অব জয়েন স্টক কোম্পানিজের নিকট থেকে একটি আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা নিবন্ধিত হয়ে এদেশে ডিরেক্ট সেলিং পদ্ধতির মধ্যদিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে এবং যুবসমাজের বেকারত্ব দূরীকরণ, শিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত পুরুষ ও মহিলাসহ স্বল্প আয়ের মানুষদের আর্থিক সচ্ছলতা আনয়নের জন্য কাজ করে আসছে। মাত্র ১২ জন ক্ষতিগ্রস্ত জিজিএন ও নিউওয়ের ক্রেতা-পরিবেশকের সমন্বয়ে, সম্পূর্ণ সততার সঙ্গে কাজ করার অভিপ্রায়ে এবং কোনো ধরনের প্রতারণা বা ছলচাতুরীর পথ অনুসরণ না করার অঙ্গীকার নিয়ে ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর ব্যবসায়িক কার্যক্রম নগদে ১২ লক্ষ টাকার পুঁজি বিনিয়োগ করে ২০০১ সালের ৫ জানুয়ারি ১৫ পুরানা পল্টনের চৌধুরী কমপ্লেক্সের চতুর্থ তলার ঠিকানায় শুরু হয়। ১১ বছর পেরিয়ে আজ পর্যন্ত ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন ৪৫ লক্ষ ক্রেতা পরিবেশক যাদের মধ্যে ৭ লক্ষাধিক নারী সম্পৃক্ত রয়েছেন।
মূলত ইলেক্ট্রনিক ও হোম এপ্লায়েন্স, খাদ্য পরিপূরক, জৈবসার ও পরিবেশ বিষয়ক পণ্য, স্কিন কেয়ার কসমেটিকস, হেলথ কেয়ার ও হাউজ হোল্ড প্রোডাক্ট ইত্যাদি স্থানীয়ভাবে উৎপাদনকৃত ও আমদানীকৃত গুণগতমান সম্পন্ন পণ্যসামগ্রী কোনো প্রকার ডিলার এবং পরিবেশক ছাড়াই সরাসরি ক্রেতার নিকট বিক্রয় করা হয় এবং প্রতি সপ্তাহে নির্ধারিত সময় পণ্য বিক্রয়কারী তথা ব্যক্তি পর্যায়ে পণ্য বিক্রয় করে যারা ক্রেতা হন ও পরিবেশক তৈরি করেন এবং পণ্য বিক্রয়ের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় প্রতি সপ্তাহে কমিশন লাভ করেন। এভাবে একজন ব্যক্তি তার নিজস্ব বিজনেস সেন্টারের মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২১টি পণ্য বিক্রয় করতে পারেন এবং বিক্রীত পণ্য অনুসারে প্রতি বিজনেস সেন্টারে নূ্যনতম ৬০০ টাকা থেকে ১২৬০০ টাকা আয় করতে পারেন এবং আগ্রহী যে কোনো ব্যক্তি একের অধিক বিজনেস সেন্টার নিয়ে কাজ করতে পারেন।
এক নজরে ডেসটিনি-২০০০ লিঃ
য় কোম্পানির নাম : ডেসটিনি-২০০০ লিঃ
য় রেজিস্টার অফিস : ৩৮, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০
য় ব্যবসার ধরন : ডিরেক্ট সেলিং
য় নিবন্ধনের তারিখ : ১৪ ডিসেম্বর, ২০০০
য় ট্রেড লাইসেন্স নম্বর : সি-৪২০৭৫(১৪৩৪)/২০০০
য় ট্যাক্স আইডিনটিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) : ১৪১২০০৯১৯৬
য় ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নম্বর : ৯০২১০৫৭৪৭৪
য় সদস্যপদ : ঢাকা চেম্বার অব কমার্স
(ডিসিসিআই), রেজি. নং- ১০৭৫৬
তারিখ : ১১/১১/২০০১
য় কর্মকর্তা-কর্মচারী : ৬৫০ জন
(ডেসটিনি গ্রুপ : ২৮৫০ জন) (চলমান)
য় ডিস্ট্রিবিউটর বা ক্রেতা-পরিবেশক
(ডিস্ট্রিবিউটর আইডিন্টিফিকেশন নাম্বার) : ৪৫ লক্ষ (চলমান)
য় ক্রাউন এক্সিকিউটিভ : ০৪ জন (চলমান)
য় ডায়মন্ড এক্সিকিউটিভ : ১০২ জন (চলমান)
য় মোট প্রফিট শেয়ার ডিস্ট্রিবিউটর (পিএসডি) : ৩২২১ জন (চলমান)
য় মহিলা প্রফিট শেয়ার ডিস্ট্রিবিউটর (পিএসডি) : ১৪০ জন (চলমান)
য় ব্রাঞ্চ অফিস : ১২৪
য় ডিভিশন অফিস : ০৭
য় ডিস্ট্রিবিউটর অনলাইন রেজি. অথরিটি (ডোরা) : ১০০০+ (চলমান)
য় ইনস্টিটিউশনাল রিজিওনাল ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার
(আইআরডিসি) (পণ্য সরবরাহ) : ৮৬ (চলমান)
য় রিজিওনাল ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার : ১৫০০ (চলমান)
(আরডিসি) (পণ্য সরবরাহ)
য় ডিভিশনাল চ্যানেল ডিস্ট্রিবিউশন
(ডিসিডি) (পণ্য সরবরাহ) : ১১ (চলমান)
য় ন্যাশনাল ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল
(এনডিসি) (পণ্য সরবরাহ) : ০১ (চলমান)
য় ডেসটিনি সেলস ট্রেনিং
সেন্টার (ডিএসটিসি) : ৭৭টি (চলমান)
য় এ পর্যন্ত সরকারি কোষাগারে
ট্যাক্স, ভ্যাট ও সোর্স ট্যাক্সসহ প্রদত্ত টাকা : ৩,০০১.১৭ মিলিয়ন
য় মোট শেয়ার হোল্ডার : ৪৯ জন
য় প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক : ১২ জন
য় পর্ষদ পরিচালক : ১১ জন
ফ্যাক্স +৮৮-০২-৮৩২২৪৩৯, ই-মেইল : রহভড়@ফবংঃরহু-২০০০.পড়স,
ওয়েব : িি.িফবংঃরহু-২০০০.পড়স
(বি.দ্র. : প্রতি সেকেন্ডে আমাদের পরিসংখ্যান পরিবর্তন হয় বিধায় পরবর্তীতে উক্ত পরিসংখ্যান কাঙ্ক্ষিত সময় অনুযায়ী সংযোজন ও পরিবর্তনযোগ্য।)
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি : ডেসটিনি গ্রুপ
য় মূল কোম্পানি হিসেবে ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ডেসটিনি গ্রুপ।
য় ডেসটিনি গ্রুপের অন্তর্গত মোট প্রতিষ্ঠান ৩৭টি যার মধ্যে ৯/১০টি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, বাকিগুলো গঠনমূলক প্রক্রিয়ায় প্রক্রিয়াধীন আছে।
য় বৈশাখী মিডিয়া লিঃ ও দৈনিক ডেসটিনি ডেসটিনি গ্রুপের নিজস্ব মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান।
য় মোট কর্মকর্তা কর্মচারী সংখ্যা- ২৮৫০ জন (চলমান)
প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য
১) দেশের প্রতিটি জেলায় কমপক্ষে একটি করে উৎপাদন ও রফতানিমুখী শিল্প স্থাপন করা।
২) ১ কোটি মানুষকে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি নিশ্চিত করা।
৩) দেশব্যাপী ৫ কোটি গাছ রোপণ নিশ্চিত করা।
৪) পরিবেশ সচেতনতায় দেশব্যাপী জনগণকে সম্পৃক্ত করা।
৫) ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি জেলায় লো কস্ট হাউজিং তথা স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণ করে পরিকল্পিত নগরায়ন বাস্তবায়ন করা।
৬) কৃষিখাতে প্রযুক্তি নির্ভর বিনিয়োগ করে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো।
৭) বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হয়ে প্রযুক্তির সহযোগিতায় দেশের বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করা।
৮) বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রযুক্তিগত গবেষণা ও বিনিয়োগ।
৯) বিপণন ব্যবস্থায় কর প্রদানে প্রযুক্তিগত ব্যবহার করে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করা। জলোচ্ছ্বাস ও বন্যাকবলিত এলাকায় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ।
১০) দেশব্যাপী শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ।
১১) দেশব্যাপী চিকিৎসাসেবা খাতে বিনিয়োগ।
১২) সমাজের অবহেলিত, বঞ্চিতদের সেবার জন্য এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে সক্রিয় থাকার জন্য ডেসটিনি এডুকেশন অ্যান্ড হেলথ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সেবা বৃদ্ধি।
১৩) প্রতি বছর স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির মাধ্যমে দুস্থ রোগীদের সেবা করে আসছে। এছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ রক্তদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
ডেসটিনি গ্রুপের উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টাসমূহ নিম্নরূপ
বর্তমানে ৪৫ লক্ষ ডিস্ট্রিবিউটর দেশের বিভিন্ন স্তরে অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে আলোকিত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার উদ্দেশ্যে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।
ইতিমধ্যে ২২টি ভিন্ন ভিন্ন বাগানে প্রায় ১ কোটি গাছ নতুনভাবে রোপণ করে দেশের জলবায়ু ও পরিবেশ রক্ষার কাজে ও কার্বন ট্রেডের আওতায় দেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
২০০৮ সালে বৈশাখী টিভি ক্রয়ের পর আমরাই একমাত্র প্রতিষ্ঠান যারা 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা'য় সেস্নাগানটি বৈশাখী টিভির লোগোর সঙ্গে যুক্ত করা হয়। আমরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।
আমাদের বৈশাখীর অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠান করে হচ্ছে। আগামীতে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সংবলিত নতুন অনুষ্ঠান প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর উদ্যোগে ভাষা শহীদ, ভাষা সৈনিক, বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবার ও নারী মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে এবং তাদের প্রতি পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি প্রদানের আহ্বান জানিয়ে আগ্রহীদের চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ডেসটিনি গ্রুপ ও এর উচ্চ পর্যায়ের সফল পরিবেশকরা সম্মিলিতভাবে বিগত বছরে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ৩ কোটির বেশি টাকা অনুদান দিয়েছে।
খুলনার শরণখোলায় প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি পাঁচ তলা দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে ১৬টি আবাসন কেন্দ্রে সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত ও গৃহহীন ১৬টি পরিবারকে বসবাস করার নিমিত্তে, মাননীয় খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী জনাব ড. আব্দুর রাজ্জাকের উপস্থিতিতে এবং তার হাতেই হস্তান্তর করা হয়।
ডেসটিনি গ্রুপ প্রতি বছর দেশব্যাপী শীতবস্ত্র বিতরণ করে থাকে এবং এই ধারাবাহিকতায় গত বছর প্রায় ১ লক্ষ কম্বল গরিব ও গৃহহীনদের মাঝে বিতরণ করে। চলতি বছর এই সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করা হবে।
বিগত সময়গুলোতে আমরা আমাদের সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছি।
বাংলাদেশ ফুটবলের আরো উন্নতির লক্ষ্যে সাফ গেমস, ১ম ও ২য় বিভাগ লিগ স্পন্সরশিপ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেটকে বিশ্বের দরবারে আরো সমৃদ্ধ করার জন্য এনসিএল টি-২০ ক্রিকেট লিগে ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা, বিপিএল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ৭,৫০,০০,০০০/- (সাত কোটি পঞ্চাশ লক্ষ) টাকা স্পন্সরশিপ দেওয়া হয়েছে।
সমপ্রতি ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হকি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সহযোগিতায় বাংলাদেশ হকি টিমের যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ বাবদ প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা শহর থেকে জনসংখ্যার চাপ কমানো ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে ঢাকার বাইরে ৬টি বিভাগে ৬টি ৩০ তলা ভবন তথা ডেসটিনি বিজনেস সেন্টার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যে ২টি বিভাগে অর্থাৎ খুলনা ও বরিশালে দুটি ৩০ তলা টুইন টাওয়ার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এছাড়া প্রতিটি জেলা শহরে ডেসটিনি ভবন স্থাপনের জমি ক্রয়ের প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে।
প্রত্যেক উপজেলা সদরের ১০ কিমি দূরত্বের মধ্যে সাধারণত নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে লো কস্ট হাউজিং প্রকল্প করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে অতি সাধারণ নিম্ন ও মধ্যবিত্তের যে কেউ ব্যাংক লোন না নিয়েই মাত্র ২০ হাজার টাকা মাসিক কিস্তি প্রদানের মাধ্যমে কম বেশি ১০ বছর সময়ের মধ্যেই একটি ৮৫০ বর্গফুটের আবাসনের মালিক হতে পারবে এবং শহরের ওপর আবাসনের চাপ কমবে।
ডেসটিনি গ্রুপের সক্রিয় প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং এর প্রায় ১৫,০০০ ডিস্ট্রিবিউটর সরকারের কর কোষাগারে নিয়মিত ভ্যাট ট্যাক্স ও উৎস কর প্রদান করেছে এবং প্রতি বছর এই কর স্বচ্ছতার সঙ্গে দিয়ে আসছে। আগামী অর্থবছরগুলোতে সরকারের বাজেটকে সফল করার লক্ষ্যে ভিন্ন ভিন্ন খাতের অনুকূলে বিনিয়োগ করার সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে কমবেশি নিয়মিত ১,০০০ কোটি টাকা কর প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে।
ডেসটিনি যা চায়
সরকারের সহযোগী হিসেবে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নমূলক শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সেবা, যানবাহন, তথ্যপ্রযুক্তি, বিদ্যুৎ, পরিবেশ, বৃক্ষায়ন, শিল্পায়ন ও নগরায়নে সুনির্দিষ্ট প্রকল্পে নির্ধারিত সময়ে সম্পৃক্ত হয়ে বিনিয়োগ করে আলোকিত বাংলাদেশ গড়া।
সামাজিক দায়বদ্ধতায় ডেসটিনি এডুকেশন অ্যান্ড হেলথ ফাউন্ডেশন
আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ডেসটিনি-২০০০ লিঃ, এগিয়ে চলার ১১ বছর অতিক্রম করে যুগের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আলোকিত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ডেসটিনি-২০০০ লিঃ । সময়ের হাত ধরে গত ১১ বছরে ৩৭টি লিমিটেড কোম্পানি নিয়ে ডেসটিনি গ্রুপ আজ একটি বড় পরিবার, বাংলাদেশের মানুষের সমৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ডেসটিনি গ্রুপ মনে করে তার প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। এ দায়বদ্ধতায় সংশ্লিষ্ট রয়েছে ডেসটিনি গ্রুপের ৪৫ লক্ষাধিক ক্রেতা-পরিবেশক। অর্থনৈতিক মুক্তির যুদ্ধে সফলতার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের সহযাত্রী হয়েছে ডেসটিনি এডুকেশন অ্যান্ড হেলথ ফাউন্ডেশন। ২০০৮ সালের ৮ আগস্ট ইনকরপোরেশনভুক্ত হয়েছে এ প্রতিষ্ঠানটি। ইনকরপোরেশন নম্বর : সি-৮১১২, তারিখ : ০৪/০৮/২০০৮
উদ্দেশ্য
বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সুযোগ নিশ্চিতকরণে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী ডেসটিনি এডুকেশন অ্যান্ড হেলথ ফাউন্ডেশন সময় উপযোগী পদক্ষেপ ও প্রচেষ্টা বাস্তবায়ন কল্পে কাজ করবে।
লক্ষ্য
সুস্থ ও শিক্ষিত নাগরিক দেশের সম্পদ। স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা অধিকার বঞ্চিত মানুষ বিশেষ করে দুস্থ মহিলা, শিশু ও গরিব মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্য সেবা সহায়তা ও শিক্ষা বৃত্তি সহযোগিতার মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করা।
সুপ্রিয় মহোদয়, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের বাস্তবায়নে ডেসটিনি এডুকেশন অ্যান্ড হেলথ ফাউন্ডেশন যে বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করে আসছে আমরা তা দেখার চেষ্টা করব_
শিক্ষা
শিক্ষা সচেতনতামূলক উদ্যোগ
জনসচেতনতা, সেমিনার, গোল টেবিল বৈঠক, প্রচারণা, মিডিয়ার মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরি করা।
সমাজের অসহায়, শিক্ষা অধিকারবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা সহায়তা
গরিব মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাবৃত্তি
মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহ প্রদানে শিক্ষা সম্মাননা
স্বাস্থ্য
স্বাস্থ্যবিষয়ক জনসচেতনতা
আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিদের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাপত্র ব্যবস্থা
গরিব ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তা
বিভিন্ন দুর্যোগ ও মহামারীতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা প্রদান ও আর্থিক সহায়তা
স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি
প্রিয় পাঠক, ডেসটিনি এডুকেশন অ্যান্ড হেলথ ফাউন্ডেশন ডেসটিনি গ্রুপের সহযোগী সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সামাজিক দায়বদ্ধতা হিসেবে যে বিষয়গুলোর গুরুত্ব অনুধাবন করে সমাজের বিভিন্ন মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে আসছে তা নিম্নরূপ_
প্রাকৃতিক দুর্যোগ
বিগত দিনে আমাদের পরিবেশ, অঞ্চল, জনপদ, তথা দেশ বারবার আক্রান্ত হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সিডর, আইলা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে। এসব দুর্যোগ যখনি এসেছে তখনি ডেসটিনি দাঁড়িয়েছে অসহায় আর্তপীড়িত মানুষের পাশে। বাড়িয়ে দিয়েছে সাহায্যের হাত। আমাদের ৪০ লক্ষ মানুষের সাহসী ভূমিকায় হয়তো অনেকেই পেয়েছেন বেঁচে থাকার অবলম্বন। ঘূর্ণিদুর্গতের অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছি আমরা। শুধু তাই নয়, জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়া মানুষের লাশের স্তূপ যেন আর আমাদের দেখতে না হয় তার জন্য আমরা সম্ভাব্য উপদ্রুত উপকূলে খুলনার শরণখোলায় প্রতিষ্ঠা করেছি ২টি ডেসটিনি দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র ভবন। ভবিষ্যতে সম্ভাব্য উপকূলে আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।
শীতবস্ত্র
যখন শীতের প্রকোপে আমাদের জনপদ স্থবির হয়েছে ডেসটিনি পরিবারের ৪০ লক্ষ ক্রেতা পরিবেশক তখনি এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে শীতবস্ত্র নিয়ে। প্রতি বছর দেশব্যাপী শীতবস্ত্র বিতরণ আমাদের একটি নিয়মিত কর্মসূচির উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা।
স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি
স্বেচ্ছায় রক্তদান ডেসটিনি এডুকেশন অ্যান্ড হেলথ ফাউন্ডেশনের একটি নিয়মিত কর্মসূচি। প্রতি বছর বিশেষ করে সন্ধানী, রেড ক্রিসেন্ট বস্নাড ব্যাংক, লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল ও অন্যান্য সংগঠনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ডেসটিনি পরিবারের সদস্যরা দেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সর্বোচ্চ রক্ত সংগ্রহ ও প্রদান করে মুমূর্ষু রোগীদের জীবন বাঁচাতে সহায়তা প্রদান করে।
হেলথ কেয়ার
ফাউন্ডেশনের সহযোগী হিসেবে আমাদের রয়েছে ডেসটিনি হেলথ কেয়ার সেন্টার। যার মধ্যে ফার্স্ট এইড ও বেসিক লাইফ সাপোর্ট প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসম্পর্কিত ও রোগ প্রতিকার ব্যবস্থাপত্র, ডায়াবেটিস, যক্ষ্মা, কোষ্ঠ, ক্যান্সার, জরায়ু ক্যান্সার, কিডনি রোগ প্রতিকার শরীর চর্চা ও রক্ত পরীক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত সেবা প্রদান স্বাস্থ্য ক্যাম্প, গোলটেবিল আলোচনা, সেমিনার, সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা হয়।
ডেসটিনি মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল
অচিরেই ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ডেসটিনি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা ও জীবন বাঁচাতে দেশের মহাসড়কগুলোয় ও রাজধানীতে মোবাইল হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের নিমিত্তে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য বীমা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে ডেসটিনির।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
শিক্ষার মান উন্নয়নে ও শিক্ষা সেবার ডেসটিনি পরিবার মনে করে শিক্ষা বঞ্চিত জনপদে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় সকলকে এগিয়ে আসা উচিত। এই চেতনায় ডেসটিনি নোয়াখালীতে প্রতিষ্ঠা করেছে ডেসটিনি কলেজ। এছাড়া ভবিষ্যতে প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী দেশব্যাপী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় পরিকল্পনা ডেসটিনি পরিবারের প্রক্রিয়াধীন।
অনুদান
বিশেষ করে যখনি দুর্যোগ, মহামারী, দুর্ঘটনা মানুষকে নির্বাক করে দেয়, মানুষ অনুভব করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তখনি ডেসটিনি পরিবার এগিয়ে এসেছে অনুদান নিয়ে। বিগত দিনে নিমতলী ট্র্যাজেডি, আইলা, জলোচ্ছ্বাস ও সিডর উপদ্রুত এলাকা, মিরশরাই ট্র্যাজেডি, প্রতিবন্ধী শিশুদের সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আমাদের অনুদান সহায়তা অব্যাহত ছিল ও ভবিষ্যতে থাকবে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন
আগামী প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্যে ডেসটিনি পরিবার ইতিমধ্যে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে ৩ কোটি ৩ লক্ষ টাকা প্রদান করেছে। এছাড়া সামরিক জাদুঘরের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন অনুষ্ঠানে ইতাহস দর্পণ ও মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ডেসটিনির ভূমিকা ও উপস্থিতি ছিল উজ্জ্বল। বীরাঙ্গনাদের সামাজিকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠায় জনসচেতনতায় উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। শুধু তাই নয়, বীরাঙ্গনাদের পরিবার, ভাষা শহীদ পরিবার, শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবার, বীর নারী মুক্তিযোদ্ধাদের এবং বীর মূক্তিযোদ্ধাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে সম্মাননা জানিয়েছে এবং এদের পরিবারের ১ জনকে স্থায়ী চাকরির নিশ্চয়তা দিয়েছি। আমরা মনে করি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে আলোকিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।
পরিবেশ : বিশ্ব পরিবেশ তথা দেশের পরিবেশ সমৃদ্ধকরণে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপনসহ বৃক্ষরোপণ ও বাণিজ্যিক বনায়নের উদ্যোগ প্রতিষ্ঠায় ২০০৬ সাল থেকে প্রায় ১ কোটির অধিক গাছের চারা রোপণ করেছে ডেসটিনি পরিবার।
সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট প্রতিকার
সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট প্রতিকার বিষয়ে ডেসটিনি পরিবার সব সময়ই জন সচেতনতায় সোচ্চার। প্রচারণা, র্যালি, সেমিনার, টক শো ইত্যাদির নিয়মিত আয়োজন আমরা করে থাকি।
সাহিত্য ও সংস্কৃতি
জীবনের দর্পণ। এই দর্পণে আমাদের কৃষ্টি ও সভ্যতার চেতনার বিকাশে অবদান রেখে আসছে ডেসটিনি এডুকেশন ও হেলথ ফাউন্ডেশন। বাংলাদেশের থিয়েটার আন্দোলনের অন্যতম সহযাত্রী ও পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াও এ দেশাত্মবোধক ও মুক্তিযুদ্ধের গান, মুক্তিযুদ্ধের ছবি নির্মাণে এবং সংস্কৃতির বিকাশে আমরাও সকলের সহযাত্রী।
ক্রীড়া
বাংলাদেশের ক্রীড়া উন্নয়নে ডেসটিনি পরিবার ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, টেবিল টেনিস, হকিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে। বিশেষ করে সাফ ফুটবল, ১ম ও ২য় বিভাগ মহানগরী ফুটবল লিগ, বিপিএল টি-২০, আইসিসি ওয়ার্ল্ড কাপের অন্যতম স্পন্সর ছাড়াও দাবা ও টেবিল টেনিস ফেডারেশনে ডেসটিনির নিজস্ব দল ও উল্লেখযোগ্য শীর্ষস্থান রয়েছে।
আমাদের মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ যদি আমাদের চেতনায় আলোকিত জীবনের প্রতিচ্ছবি প্রতিফলিত করে আসুন মানুষের জীবনের সমৃদ্ধির জন্য জীবনের পাশে জীবন হই। ডেসটিনি এডুকেশন ও হেলথ ফাউন্ডেশন সব জীবনে আবারো আপনাদের আহ্বান জানায় এই গানে_ মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য।
ডেসটিনিকে নিয়ে সামপ্রতিক অপপ্রচার
জনগণ ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ
২০০০ সাল থেকে এই কোম্পানিটি ডিরেক্ট সেলিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে গত ১১ বছর ধরে ব্যবসা করে আজ যুগের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। যার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন ৪৫ লক্ষ নারী-পুরুষ তথা ডিরেক্ট সেলার। যাদের প্রত্যেকেই এই দেশের নাগরিক এবং ভোটার। যারা প্রত্যেকটি পণ্য বিপণনে সরকারকে নিয়মিতভাবে ভ্যাট ট্যাক্স প্রদানে আন্তরিক ছিলেন। নীতিমালা বা আইন না থাকলেও এই কোম্পানিটি এ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় কোষাগারে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার মতো ভ্যাট, ট্যাক্স ও সোর্স ট্যাক্স প্রদান করেছে। সমপ্রতি কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু মিডিয়ার সাংবাদিক বন্ধু ও সরকারি কিছু প্রতিষ্ঠানকে এবং দেশের জনগণকে ডেসটিনি সম্পর্কে মিথ্যা ও কাল্পনিক সংবাদ পরিবেশন করে বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত হয়েছে। তারা ভেবেছিল এর ফলে ডেসটিনির ডিরেক্ট সেলাররা বিক্ষিপ্তভাবে বিক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমে আসবে এবং মিছিল মিটিং করবে, ভাঙচুর করবে, সর্বোপরি অরাজকতা সৃষ্টি করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে। মূলত সরকারের বিরুদ্ধে ডেসটিনিকে প্রতিপক্ষ করার হীন চেষ্টা ছিল এটি। কিন্তু তারা জানে না ডেসটিনির ডিরেক্ট সেলাররা সুশৃঙ্খল ও সচেতন দেশপ্রেমিক নাগরিক হওয়ার পূর্বশর্ত ও প্রশিক্ষণ নিয়েই তার পর ডিরেক্ট সেলিং বিপণন পদ্ধতির মধ্যদিয়েই ডেসটিনির ডিরেক্ট সেলার হয়। ওইসব মুখোশধারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সকল প্রচেষ্টা আজ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। এদেশে কে কাকে কোন আইনে এই অধিকার দিয়েছে যে- যখন তখন যার তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যা খুশি তাই মিথ্যাচার করে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের চরিত্র হনন করবে। এদেশের নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের অধিকার ও আইন কখনো কাউকে এ অধিকার দেয়নি। একটি প্রতিষ্ঠান ১১ বছর ধরে ব্যবসা করে এখনো তার অস্তিত্বের সুস্পষ্ট ঘোষণা দিলে বুঝতে হবে এই প্রতিষ্ঠানটি জনগণেরই প্রতিষ্ঠান। সাংবাদিকতার মহান পেশাকে আমরা শ্রদ্ধা করি। কোনো প্রতিষ্ঠানের চলার পথে কোনো ভুলভ্রান্তি হলে সেই প্রতিষ্ঠানকে শোধরানোর জন্য গঠনমূলক সমালোচনা ও সত্য সংবাদ পরিবেশন জনগণ প্রত্যাশা করে। কিন্তু উদ্দেশ্যমূলক হলুদ সাংবাদিকতায় জনগণ তাৎক্ষণিকভাবে বিভ্রান্ত হলেও পরবর্তীতে সত্যের প্রকাশ হওয়া স্বাভাবিক ও চিরন্তন। আমরা আশা করব, সংবাদপত্রের আয়নার পেছনের পারদের প্রলেপ যেন বিক্ষিপ্ত না হয়। কারণ সংবাদপত্রের আয়নায় দেশ ও দেশের মানুষের প্রতিচ্ছবি দেখা না গেলে তার দায়দায়িত্ব মহান সাংবাদিক বন্ধুদেরকেই বহন করতে হবে। এ প্রসঙ্গে জনগণের সরকারের দায়দায়িত্ব যদি সময়োপযোগী না হয় তাহলে এদেশের ডিরেক্ট সেলাররা তাদের পূর্ণ বা খ-কালীন কাজ ও কাজের পারিশ্রমিক হারালে বা হতাশাগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতি এবং সমাজে বেকারত্বের অভিশাপ ও বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
আমরা আশা করব, বর্তমান সরকারের আমলেই ডিরেক্ট সেলিংয়ের নীতিমালা ও আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সকল অপপ্রচার ও অসৎ উদ্দেশ্যের সমাপ্তি ঘটবে। সেইসঙ্গে ডেসটিনিসহ অন্যান্য যে সকল সঠিক ডিরেক্ট সেলিং কোম্পানি দেশের উন্নয়নে কাজ করতে চায় তাদের পর্যাপ্ত সুযোগ দিয়ে উৎপাদনমুখী শিল্পায়ন ও আত্মকর্মসংস্থানে দেশের মানুষকে সম্পৃক্ত করার সুযোগ দিয়ে আলোকিত বাংলাদেশ গড়তে হবে।
লেখক : মহাব্যবস্থাপক (মার্কেটিং, সেলস অ্যান্ড অপারেশন), ডেসটিনি গ্রুপ
সুত্রঃ দৈনিক ডেসটিনি
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন