শামসুদ্দোহা সোহাগ
উন্নয়নশীল দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারায় এক অদ্ভূত হার-জিতের খেলা চলে। শুধু গ্রাম হারে-শহর জেতে, শহর হারে-নগর জেতে, একদিন নগরেরও পরাজয় হয় মহানগরের কাছে। তারপর উন্নয়নশীল দেশের মহানগরীও মার খায় ধনী দেশের কাছে। হার-জিতের ব্যাপারটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেই যিনি এর প্রতিকারে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন_ তার নাম মোহাম্মদ রফিকুল আমীন। শিক্ষিত হতাশাগ্রস্ত কিংকর্তব্যবিমূঢ় বিপুলসংখ্যক বেকার যুবককে প্রণোদনা দিয়ে আত্মনির্ভর হয়ে ওঠার মানসিক শক্তি সঞ্চারণের জন্য গড়ে তুললেন ডেসটিনি-২০০০ লিঃ নামে কোম্পানি। ২০০০ সালে সূচিত এই কোম্পানির ছায়াতলে আসা নানাবয়সী মানুষ স্বপ্ন দেখতে শুরু করল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির সোনার বাংলা গড়ার। ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর মূলমন্ত্র_ 'আমরা মিলিতভাবে আমাদের স্বপ্ন নির্মাণ করি।' এই প্রত্যয়ে ডেসটিনি স্বল্প সময়ের ব্যবধানে আজ পরিণত হয়েছে উন্নয়নমুখী বহুমাত্রিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে। আজ এখানে সম্পৃক্ত প্রায় অর্ধকোটি শিক্ষিত কর্মমুখী মানুষ, এদের একাংশ আবার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন সোনার বাংলা গড়ার। আর এই সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যেই বঙ্গবন্ধু ডাক দিয়েছিলেন স্বাধীনতার। তার ডাকে সাড়া দিয়েই বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়েছেন স্বাধীনতা সংগ্রামে, যে সংগ্রামের ফসল আজকের এই বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন, কিন্তু স্বপ্নের বাস্তবায়ন করতে পারেননি। স্বপ্ন বাস্তবায়নের পূর্বেই সোনার বাংলাবিরোধী স্বার্থান্বেষী প্রতিক্রিয়াশীল কুচক্রী মহল সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে।
অরাজনৈতিকব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ রফিকুল আমীন দেশের নানা শ্রেণী-পেশার লোক আর সমাজের বঞ্চিত প্রায় অর্ধকোটি শিক্ষিত বেকার তরুণকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সেই সোনার বাংলার স্বপ্নকে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিকভাবে বাস্তবায়ন করতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে দ্রুত এগিয়ে চলেছেন। দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে অনেকাংশে সফলও হয়েছেন। স্বাধীনতার সাড়ে ৩ যুগে দেশের রাজনীতিকরা যা করতে পারেননি, তা মাত্র একযুগে মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ডেসটিনি দিয়ে প্রমাণ করেছেন সদিচ্ছা থাকলে দেশের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখা অসম্ভব নয়। তবে এক্ষেত্রেও সোনার বাংলাবিরোধী স্বার্থান্বেষী প্রতিক্রিয়াশীল কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে, যারা কিছু মিডিয়াকে ব্যবহার করে সামাজিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ডেসটিনিকে ধ্বংস করতে চায়; কিন্তু সামাজিক উন্নয়নব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ রফিকুল আমীনের সুদৃঢ় নেতৃত্ব, ডেসটিনি গ্রুপের সুদক্ষ পরিচালনা পর্ষদ, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ডিস্ট্রিবিউটরদের সুশৃঙ্খল বন্ধন এবং অটুট মনোবলের কারণে ষড়যন্ত্রকারীরা এগোতে পারছে না। এক রফিকুল আমীনের কাছে স্বপ্ন বাস্তবায়নের কর্মকৌশল রপ্ত করে সৃষ্টি হয়েছে লাখ লাখ রফিকুল আমীন, যারা জানেন হাত পেতে দয়ার দান নেওয়ার মধ্যে কোনো মর্যাদা নেই_ মর্যাদা আত্মনির্ভরশীলতায়। ডেসটিনির প্রত্যাশা_ এদেশের সব মানুষ একদিন স্বনির্ভর হয়ে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, সেই দিন আর বেশি দূরে নয়। বিদেশি প্রভুরা অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকবে বাংলাদেশের দিকে।
ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখি বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া রাজনৈতিক সংগঠন নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে কিন্তু সুদৃঢ় নেতৃত্বের কারণে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানটি আজ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়, সরকারে। সেই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাধারী সরকারের ব্যক্তিবর্গকে বুঝতে হবে, অর্ধকোটি জনসংশ্লিষ্ট উন্নয়ন ও জনকল্যাণমুখী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে যাচ্ছেতাই করলে যে অর্থনীতির ক্ষতি, দেশের ক্ষতি, জনগণের ক্ষতি, জনমুখী সরকারের ক্ষতি। বুঝতে হবে_ ডেসটিনি এখন খসেপড়া কোনো পাতা নয়_ সুদৃঢ় একটি বৃক্ষ; যে বৃক্ষের শিকড় অনেক গভীরে। শুধু অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক দিক দিয়ে নয়_ শিক্ষায়, সংস্কৃতিতে, পরিবেশে, বাসস্থানে, চিকিৎসায়, সামাজিক খাতে তার শিকড় গ্রথিত। ডেসটিনি শুধু অর্ধকোটি লোকের সমষ্টি নয়_ অর্ধকোটি পরিবারের সমষ্টিও! স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহলের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হলে অর্ধকোটি পরিবারের স্বার্থের দিকটি যে নস্যাৎ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেয়_ সরকারকে তা বুঝতে হবে। এ ছাড়া ভোটের রাজনীতির দেশে ভোটারকেও প্রাধান্য দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
ইতিহাসের দর্শনতত্ত্বের একটি পরিচিত উক্তি 'বুদ্ধিমানরা ইতিহাসের সঙ্গে যায়, নির্বোধকে ইতিহাস টেনে নেয়।' আবার ইতিহাসের দিকে যেতে হলে প্রথমেই ইতিহাসের গতিটি সঠিকভাবে চিনে নিতে হয়। সরকার প্রধানকে ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে বুঝতে হবে, বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার মসনদের পাশে যারা ছিলেন তারা যে সবাই সিরাজের ছিলেন না; সাক্ষী পলাশী যুদ্ধের ফলাফল।
রাজনীতিকরা কথার ফুলঝুরিতে যতটুকু পারদর্শী অর্থনৈতিক উন্নয়নে ততটা নন। অর্থনীতিবিদরা অর্থনৈতিক সমস্যা চিহ্নিত করেন ঠিকই কিন্তু সরকারকে সমাধানের পথ বাতলে দেন না। পরিকল্পনাবিদরা শুধু পরিকল্পনা নিয়েই ব্যস্ত থাকেন, বাস্তবায়ন করেন না। মিডিয়াগুলো শুধু সমালোচনাই করতে পারেন, আলোচনা করতে পারেন না। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের দিকে তাকালে আমরা অন্তত তাই দেখি। এই সংস্কৃতি থেকে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞকে বেরিয়ে আসতে হবে। কেবল বেরিয়ে এলেই হবে না_ দেশের ক্রমবর্ধমান বেকার জনগণকে কাজে লাগিয়ে জনসম্পদে পরিণত করতে হবে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন ধারা সৃষ্টিতে যেমন করেছেন ডেসটিনির মোহাম্মদ রফিকুল আমীন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সমগ্র বিশ্বসেরা অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে মানবতাবিধ্বংসী পারমাণবিক প্রতিযোগিতায় না নেমে শিক্ষা-সংস্কৃতি, বিজ্ঞান-প্রযুক্তির অগ্রগতি ও মানবকল্যাণে মনোনিবেশ করে জাপানিরা তাদের দেশের অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়েছেন, ঠিক তেমনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর রাজনীতিকদের পরস্পরকে দোষারোপ করা কাদা ছোড়াছুড়ির সংস্কৃতিতে না গিয়ে, শিক্ষিত বেকার জনগণকে নিয়ে সোনার বাংলা বিনির্মাণের সংস্কৃতিতে মনোনিবেশ করে দেশের অর্থনীতির মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করছে মোহাম্মদ রফিকুল আমীনের নেতৃত্বাধীন ডেসটিনি।
বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁসে গড়ে ওঠা দ্বীপদেশে জন্ম নেওয়ার পর যিনি আশৈশব দেখেছেন নদীর ভাঙা-গড়ার খেলা। নদীর ভাঙায় ভিটেমাটিসহ মানুষ হারে, আবার সেই নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে হেরে যাওয়া মানুষ নতুন স্বপ্ন বোনে, বসতি গড়ে, নামে জীবন সংগ্রামে। ধু-ধু বালুচর আবার শ্যামল হয়ে ওঠে ফসলে, ছায়াঘেরা বাগ-বাগিচায়।
দেশের বিদ্বানরা যেখানে বিদেশে গিয়ে মেধার ফসল বোনেন, রুটি-রুজি করে নিবাস গড়েন সুখ-সাচ্ছন্দ্যে প্রবাসজীবন কাটান, আর ফেরেন না_ সেখানে রফিকুল আমীনরা বিদেশের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও ফেরেন, স্বদেশের মাটির টানে, মানুষের টানে, নীড়হারা মানুষের জীবন সংগ্রামের সঙ্গী হতে।
আমাদের দেশের গ্রামীণ ব্যাংক ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক যেমন বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বীকৃত মডেল, ঠিক তেমনি ডেসটিনিও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরেকটি মডেল হতে যাচ্ছে। উন্নয়নশীল এদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অভিযাত্রায় মোহাম্মদ রফিকুল আমীনকে কেউ হতোদ্যম করতে পারবেন না, কারণ তিনি কর্মহীন মানুষের জীবনমান উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়নের অভিযাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন বহুদূর। এ অভিযাত্রা যে অপ্রতিরোধ্য তা জানেন অর্থনীতি চর্চাকারী বিশেষজ্ঞ ও ডেসটিনির সঙ্গে যুক্ত অর্ধকোটি ডিস্ট্রিবিউটর এমনকি যারা ডেসটিনির বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপপ্রচার চালাচ্ছেন তারাও।
সুত্রঃ দৈনিক ডেসটিনি
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন