বৃহস্পতিবার, ২৮ জুন, ২০১২

অন্ধ যারা সবচেয়ে বেশি চোখে দেখে তারা





 






মো. মঈনুল ইসলাম
চতুর্থ বর্ষ
ভূতাত্তি্বক বিজ্ঞান বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

আমাদের স্কুলে একজন শিক্ষক ছিলেন, যার নাম এখন আর আমার মনে নেই। সকলেই তাকে প-িত স্যার নামে ডাকতেন। তিনি কখনো আমাকে অনার্য, শাখামৃগ, দ্রাবিড়সম্ভূত ছাড়া সম্বোধন করতেন না। আপনারা হয়তো ভাবছেন এখানে প-িত স্যার এল কোথা থেকে? আসলে স্যারের শেখানো কটুবাক্যগুলো আজ আমার আবার বলতে ইচ্ছা করছে। যে কোনো চালাকির গল্প এলেই যেমন গোপাল ভাঁড়ের নাম চালিয়ে দেওয়া যায়, তেমনি যে কোনো দোষ সহজে রাজনীতিবিদদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায়। গর্তের কিনারায় যে আছে তাকে হয়তো ধাক্কা দিলেই পড়ে যাবে; কিন্তু আমাদের তরুণদের সব সময় সত্য-মিথ্যা বিবেচনা করা উচিত।
আমাদের যাদের ওপর যে কাজের দায়িত্ব সে কাজে আমাদের এগিয়ে আসা দরকার। প্রশ্ন হল, আমরা কতটুকু এগিয়ে আসছি? আমাদের কতটুকু এগিয়ে আসতে দেওয়া হয়েছে? যাদের রাজনীতি বা আন্দোলন করা দরকার তারা কী তা করছে? একটা উদাহরণ দেওয়া যাক, বিগত বছরগুলোতে তেল-গ্যাস নিয়ে রাজপথে অনেক আন্দোলন হয়েছে। এ আন্দোলনে কজন ভূতত্ত্ববিদ, কজন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ রয়েছেন?
এদেশে এখন পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞানের মতো মৌলিক বিষয়গুলোর আর তেমন কদর নেই। বাজার দর না থাকার কারণে দিন দিন এ বিষয়গুলোতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা পড়তে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এমন কোনো দেশের কথা শুনেছেন_ মৌলিক বিষয় নিয়ে গবেষণা না করে যারা উন্নত হতে পেরেছে। অনেকে হয়তো বলবেন শিক্ষার হার, জিপিএ-৫-এর সংখ্যা তো অনেক বেড়েছে। তাদের জন্য একটি গল্প বলতে ইচ্ছা করছে_ 'একবার এক আমওয়ালাকে বলেছিলাম, তোমার আমগুলো বেশ ছোট। উত্তরে সে আমাকে বলেছিল স্যার, আম ছোট হলেও অাঁটি বড়।' এটা যদি সত্যি বলে ধরি কারো হাত ফুলে উঠলে তাহলে বলতে হবে স্বাস্থ্যটা ভালো হয়েছে। আজকে আমাদের দেশে বিদ্যুতের ও জ্বালানি শক্তির সংকট। বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা এসব বিষয়ে পড়ছে, যেমন ভূতত্ত্ব বিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, যন্ত্রকৌশল, খনিকৌশল তাদের আরো দক্ষ করার ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানি, যেমন শেভরন, গ্যাটকো, কনোকোফিলিপস এদেশে কাজ করছে। সরকারের উচিত এসব কোম্পানিতে দেশীয় জনবল নিয়োগে বাধ্যতামূলক করে আইন করা। এতে দেশীয় জনবল দক্ষ হবে। বাঙালি মাত্রই বিদ্রোহী। ইংরেজবিরোধী আন্দোলন বাঙালিরাই প্রথম করেছিল। ফার্সি এদেশে ৬ বছর রাজভাষা ছিল। আমরা একে চিরন্তন ভাষা হিসেবে গ্রহণ করিনি। কবি সৈয়দ সুলতান আপত্তি জানিয়ে বলেছিলেন, 'আল্লাহ বলিছে, মুই যে দেশে যে-ভাষা/সে দেশে সে-ভাষে করিলুল রসুল প্রকাশ/যাদের যেই ভাষে প্রভু করিল সৃজন/সেই ভাষা তাহার অমূল্য সেই ধন।'
ঐতিহাসিকভাবে যে বাঙালি এতটা বিদ্রোহী তাদের আটকাবে কে? শুধু দরকার যারা যে বিষয়ে পান্ডিত্য তাকে সে কাজ করার সুযোগ দেওয়া তাহলে অন্ধরা আর বেশি দেখতে পাবে ন। গড়ে উঠবে সুন্দর, স্বপ্নের বাংলাদেশ।

 সুত্রঃ দৈনিক ডেসটিনি

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন